আজ শনিবার | ৩০ আগস্ট ২০২৫ | ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ | বিকাল ৪:৫৫

পূর্বের সীমানার দাবিতে একাট্টা

ডান্ডিবার্তা | ৩০ আগস্ট, ২০২৫ | ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে এ তিনটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুর্বের সীমানায় এ আসনগুলি রাখার পক্ষে একমত পোষন করেন। এ জন্য তারা একত্রিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে পূর্বের সীমানা বহাল রাখার বিষয়ে নিজেদের যুক্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন সোনারগাঁ, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এবং সদর-বন্দর আসনের আপত্তিকারীরা। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় আসতে পারে আসন পুনর্নিধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সূত্র বলছে, গত ৩০ জুলাই ইসি প্রকাশিত প্রস্তাবিত খসড়ায় নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসন ৩, ৪ ও ৫-এর সীমানা পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। ইসির সুপারিশ অনুযায়ী, সোনারগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বন্দর উপজেলা। এতে সোনারগাঁওয়ের দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার পাশাপাশি বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়নও যুক্ত হবে। এ পাঁচটি ইউনিয়ন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওতায় রয়েছে। নতুন খসড়ায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বাদ পড়ছে সদর উপজেলার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন। তবে যুক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের নয়টি ওয়ার্ড। ইসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সবগুলো ২৭টি ওয়ার্ডকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিত হবে সদর উপজেলার ফতুল্লা, কাশিপুর, কুতুবপুর, বক্তাবলী ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন এবং নাসিকের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে। তবে নতুন খসড়ায় এ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে সদর উপজেলার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন। এর ফলে সিদ্ধিরগঞ্জের নয়টি ওয়ার্ড বাদ যাবে, যা যাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওতায়। নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনের সীমানা পুনর্নিধারণের বিষয়ে ১০আগস্ট পর্যন্ত আপত্তি জানান উক্ত আসনগুলোর স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা হচ্ছেন- নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাতিলের পক্ষে আবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ গিয়াসউদ্দিন ঘনিষ্ঠ সোনারগাঁয়ের যুবদল নেতা আশরাফুল আলম আশরাফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম ও যুবদল নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম মুকুল সোনারগাঁও উপজেলা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন এবং বন্দর উপজেলা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন গঠনের আবেদন করেছেন। মো. দেলোয়ার হোসেন ও আনিস সিকদার নামের দুই ব্যক্তি সোনারগাঁও উপজেলা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন এবং বন্দর উপজেলা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন গঠনের আবেদন করেছেন। ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন ও ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার রাফসানজানী খান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবনার পক্ষে আবেদন করেছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম, তার মেয়ে এড. সামছুন নুর বাঁধন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ ও আমরা বন্দরবাসী সংগঠনের সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার সাঈদ বন্দর থানাকে দুইটি আলাদা সংসদীয় আসনে বিভক্ত না করে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসনের সীমানা পূর্বের ন্যায় বহাল রাখার পক্ষে আবেদন করেন। সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ প্রস্তাবনার বিপক্ষে বন্দর উপজেলাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেন। এবি পার্টির ঢাকা বিভাগের সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান বেপারী নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত আবেদন করেন। মো. নাছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সোনারগাঁও উপজেলা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন এবং বন্দর উপজেলা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন গঠনের আবেদন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. মোহাম্মদ আলম খান বন্দর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার ২ ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এড. মো. শরীফুল ইসলাম শিপলু ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের ছেলে ব্যারিস্টার রিদওয়ানুর রহমান রিকু বন্দর উপজেলাকে অখ- রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনের বিভিন্ন প্রার্থীরা সীমানা পুনর্নিধারণের বিষয়ে নিন্দাও প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে ২৬আগস্ট শুনানিতে পূর্বের সীমানা বহাল রাখার বিষয়ে নিজেদের যুক্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম, জামায়াত ইসলামীর মহানগর কমিটির সাবেক আমীর মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, বিএনপির মহানগর আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের কন্যা অ্যাডভোকেট শামসুন নূর বাঁধন। এছাড়া শুনানি চলাকালে পূর্বে সীমানা বহাল রাখার জন্য স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে মত বিরোধ থাকা নেতারা পাশাপাশি চেয়ারে বসেন এবং মতবিনিময় করেন। এছাড়া শুনানিতে তারা রাজনৈতিকভাবে একে অপরের প্রতিপক্ষ হলেও শুনানি চলাকালে ঐক্যবদ্ধ সুরে নিজেদের যুক্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। যার ফলে বলা চলে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি বিভক্তি মত বিরোধ থাকলেও সীমানা জটিলতা নিরসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি।




Your email address will not be published.

Comments are closed.


আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকা
ফেসবুকে আমরা
পুরনো সংখ্যা
Copyright © Dundeebarta 2024
ডান্ডিবার্তা